জি.এম রিপন,বানারীপাড়া থেকে
বরিশালের বানারীপাড়ায় এই প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মা ও মেয়েকে চিকিৎসা দেয়া পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার ফিরোজ কিবরিয়া ও শেরে বাংলা বাজারের গ্রাম ডাক্তার মনির হোসেন স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেনন্টাইনে গেছেন।
বুধবার দুপুরে তারা স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টাইনে যান।
ওই দিন নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য ককর্মকর্তা ডাক্তার ফিরোজ কিবরিয়া সহ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে উদয়কাঠী ইউনিয়নের তেতলা মধুরভিটা গ্রাম থেকে করোনায় আক্রন্ত মা-মেয়ের বাড়িসহ ১৬টি বাড়ি থেকে ১৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীÿা করার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া কিট সংকটের কারণে মা ও মেয়েকে ইনজেকশন দেয়া শেরে বাংলা বাজারের গ্রাম ডাক্তার মনির হোসেনের নমুনা সংগ্রহ করা এখনও সম্ভব হয়নি বলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার কবির হাসান যুগান্তরকে জানিয়েছেন।
অপরদিকে ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত মা-মেয়ের চিকিৎসা ও ত্রাণ নেয়ার পাশাপাশি এলাকায় অবাধ চলাফেরার সময় তাদের সংস্পর্শে আসা লোকদের জনের মাঝেও করোনা ছড়িয়ে পড়ার আসংঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এব্যাপারে জানা গেছে, মঙ্গলবার উপজেলা তেতলা মধুর ভিটা গ্রামের দিন মজুর মো.খলিলুর রহমানের স্ত্রী তুজকাবিন (৪০) ও মেয়ে নাসরিন আক্তার আখি (১৭) করোনা পরীÿার রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুলøাহ সাদীদ ওই এলাকা লকডাউন ঘোষনা করেণ।
পরে ওই দিন বিকেলে মধুর ভিটার বাড়ি থেকে মা-মেয়েকে উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের আইসোলেশনে পাঠানো হয়।
এসময় স্বাস্থ্য কর্মী ও পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে গৃহকর্তা মো.খলিলুর রহমান ও তার ছেলে ঢাকার নারায়নগঞ্জে বালুর ভাল্কহেড শ্রমিক গফফার (২০) অন্যত্র পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাদের অবস্থান নিশ্চিৎ করা যায়নী বলে ওই ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো.জাকির হোসেন জানান।
এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার কবির হাসান যুগান্তরকে বলেন, টেস্ট রিপোর্টে মা ও মেয়ের করোনার পজিটিভ হওয়ায় মঙ্গলবার বিকেলে তাদেরকে উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের আইসোলেশনে পাঠানোর পর গত দু’দিনে ওই এলাকার ১৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
এছাড়া কিট সংকটের কারণে গ্রাম ডাকার মনির সহ সন্দেহভাজন আরও অনেকের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নী বলেও তিনি জানান।
এদিকে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, করোনায় আক্রান্ত মা-মেয়ে ১৪ এপ্রিল ছোরাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরীবার পরীকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ফিরোজ কিবরিয়ার কাছে ডায়রীয়ার চিকিৎসা নিয়ে নাজিরপুর উপজেলার বৈঠাকাটা বাজারের ফার্মাসী থেকে ঔষধ কিনে বাড়িতে যান।
এর পর থেকে তারা শেরে বাংলা বাজারের গ্রাম ডাক্তার মনির হোসেনরে কাছ থেকে ইনজেকশন নেন।
১৭ এপ্রিল তারা পূনরায় অসুস্থ্য হয়ে পড়ালে পরীবারের লোকজন তাদেরকে সড়ক পথে ও সন্ধ্যা নদীর খেয়া পাড় হয়ে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাদেরকে ভর্তি করেণ।
এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার কবির হাসান করোনা সন্দেহে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীÿার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠান।
পরে ২০ এপ্রিল সকালে উক্ত মা ও মেয়ে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পালিয়ে যান।
ওই দিন তারা উদয়কাঠী ইউনিয়ন পরীষদ থেকে ত্রাণের চাল নিয়ে বাড়ি যান এবং এলাকায় সকলের কাছে বলে বেড়ান তারা ভাল হয়ে গেছেন।
২১ এপ্রিল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তারা উদয়কাঠী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন বাজারে প্রকাশে ঘরে বেড়ান।
মা-মেয়ের অবাধ ঘোরা-ফেরা কারার কারনে ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত যারা তাদের সংস্পর্শে এসেছেন, তাদেরকে এখনও হোম কোয়ারেনন্টাইন নিশ্চিৎ করা হয়নি।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুলøাহ সাদীদ যুগান্তরকে জানান, করোনায় আক্রান্ত মা ও মেয়ের সংস্পর্শে যারা এসেছেন, তাদেরকে স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেনন্টাইনে যাওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।