স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান খান রিপন বলেছেন, অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। সেজন্য নির্বাচন যাতে বাধাগ্রস্থ হয় সে চেষ্ঠা চালানো হচ্ছে। ১৬ বছর আমরা মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছি। বাংলাদেশে আমরা গনতান্ত্রিক সরকার গঠন করতে চেয়েছিলাম। এখনও বিএনপি জনগনের ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে চাই। তাই এই সরকারের উচিত হবে ধানাইপানাই বাদ দিয়ে নির্বাচন দেয়া।
সমাবেশে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেছেন, শেখ হাসিনার সময় আন্দোলন করেছি নিত্যপন্যের দাম কমানো, খুন-গুম বন্ধের জন্য। কিন্তু অন্তর্বতীকালীন সরকারের ৭ মাস চলে গেলেও তা বন্ধ হযনি।
আজ সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসাবে জনসমাবেশে বিএনপির নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত গোপালগঞ্জের পৌরপার্ক মাঠে কেন্দ্র ঘোষিত বিএনপির জেলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই মিছিল সহকারে সমাবেশস্থালে আসতে থাকে নেতাকর্মীরা। দুপুরেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে সমাবেশ স্থল।
দুপুরে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান খান রিপন। এসময় তিনি বলেন, নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোন উপদেষ্টা যদি বলেন আগে স্থানীয় নির্বাচন হবে। তারপর জাতীয় নির্বাচন। আবার কোন কোন দল বলছে আগে শেখ হাসিনার বিচার করতে হবে। আওয়ামী লীগের বিচার মেষ করে নির্বাচন করতে হবে। আওয়ামী লীগ কত বছরে জামায়াতের নেতাদের বিচার করে ফাঁসি দিয়েছে। তাতে ৫/১০ বছর সময় লেগেছে। তাহলে কি আমরা নির্বাচনে জন্য ৫ বছর ১০ বছর অপেক্ষা করবো। এমনিতেই তো আপনারা পারছে না। স্বরাষ্ট উপদেষ্টা রাত ৩টার সময় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। দেশে একটা নির্বাচিত সরকার না থাকার কারণে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রে দাম সাধারনের নাগালে বাইরে চলে গেছে। চুরি, ডাকাতি আর রাহাজানি বেড়ে গেছে।
নির্বাচন বিলম্বিত করতে ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি অবাধ নিরপেক্ষ ভোট হয় তাহলে বিএনপি সেই নির্বাচনে জিতবে। এই নির্বাচনটা যাতে বাঁধাগ্রস্ত হয়, বিলম্বিত হয় তার জন্য ষড়যন্ত্র চলছে। দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ঘাটিতে হামলা হয়েছে। এটা কি স্বাভাবিক ঘটনা। এখন তো দেশে সরকার আছে।খোদ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ঘাটিতে হামলা হয়েছে। পাকিস্তানে আমরা মাঝে মধ্যে শুনি ওখানে সেনাবাহিনী বিমানবাহিনী সহ নানা ঘাটিতে হামলার ঘটনা ঘটে। কিন্তু সে আলামত বাংলাদেশে কেন? এর কারণটা হচ্ছে বাংলাদেশে যাতে দ্রুত নির্বাচন না হয়। নির্বাচনকে বাঁধাগ্রস্ত করার জন্য ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কিন্তু সেই ষড়যন্ত্রকে আমরা রুখে দিতে চাই।
তিনি আরো বলেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে যে সব ডিসি, এসপি ও ওসি রাতের ভোটে সহায়তা করেছে তাদের কেন এখনও পোষা হচ্ছে। তাদেরকে এখনো চাকরী থেকে বাদ দেয়া হয়নি। ভুত সরকারের মধ্যে রেখে কখনও গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। তাই ওই সব কর্মকর্তাদের চাকরী থেকে বাদ দিতে হবে। আমাদের একটা সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে হবে। একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। রাজনীতি হানাহানি মারামারি, শক্রুতা রাখা যাবে। আমি বিশ্বাস করি যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে গোপালগঞ্জের মানুষ আর নৌকা মার্কায় ভোট দিবে না। কারণ অতীতে তারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন।
ভাইস চেয়ারম্যান আরো বলেন, গোপালগঞ্জ না কি নৌকা মার্কার ঘাটি। কিন্তু নৌকা মার্কা গোপালগঞ্জবাসীকে কি দিয়েছেন। এখানে একজন পুলিশের আইজিপি ছিলেন বেনজীর আহমেদ। তিনি এখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি জোরজবরদোস্তি করে দখল করে খামার করেছিলেন। বাংলাদেশের জনগনের লুটের টাকায় জনগনকে জিম্মি করে লুট, গুম, খুন করেছিলেন পুলিশের এই সবোর্চ্চ ব্যক্তিটি। হাজার হাজার কোটি টাকা অবৈধ ভাবে কামিয়েছিলেন। গোপালগঞ্জে তিনি একটা জমিদারী ব্যবস্থার জন্য চেষ্টা চালিয়েছিলেন। অবৈধ টাকায় মানুষের চোখের পানিতে তিনি সম্পদ অর্জন করেছেন। ঢাকার ভূমি দস্যুদের মতো একটু বালু ফেলে সংখ্যালঘুদের জমি দখল করেছেন।
তিনি বলেন, আমরা ছোট বেলায় শুনেছি চোর পালালে না কি বুদ্ধি বাড়ে। আমাদের সরকারের অবস্থা হয়েছে তাই। মাঝে মধ্যে দেখি ওমুককে দেশ ত্যাগের নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু তার আগেই পগারপার। এগুলো ফাজলামি না কি অন্য কিছু। আমরা স্পষ্ট জানতে চাই এই যে আওয়ামী লীগের দোসররা যারা জনগনের সম্পদ লুটপাট করেছে, যারা খুন গুমের সাথে জড়িত, যারা দুর্নীতি করেছে এই দুর্নীতিবাজ সাবেক এমপি মন্ত্রীরা কোথায় আছে। এই সরকারে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপি ও তাদের দোসরদের পালাতে সাহায্য করেছেন। এখন মাঝে মাঝে শুনি দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা। এই সব নাটক বন্ধ করেন। আমরা চাই তাদেরকে ধরতে হবে। তাদেরকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এখানে কিন্তু নাটক করা চলবে না। অনেক নাটক হয়েছে।
তিনি বলেন, নেতা যখন দেউলিয়া হয়ে যায়, জনগন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তখন তাকে স্বৈরাচারী হতে হয়, জুলুমবাজ হতে হয়। আর এটা হচ্ছে ফ্যাসিবাদ। ফ্যাসিবাদ কারো গায়ে লেখা থাকে না। এই ধরনের চরিত্র যাদের থাকে তারা জনগনকে বিশ্বাস করেন। আর ৫ আগস্টে ফ্যাসিবাদীর পতন ঘটেছে। কিন্তু তাদের দোসররা নানা জায়গায় আছে।
একই অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসাবে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেন, তারেক জিয়ার ৩১ দফা গোপালগঞ্জের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দিতে হবে। গত ১৬ বছরে যত গুম হয়েছে খুন হয়েছে হাসিনা অর্ডারে হয়েছে। হাসিনার অর্ডারে গুলি করা হয়েছে। হাসিনার অর্ডারে আয়না ঘরে আটকে নির্যাতন করা হয়েছে। আজকে এর প্রত্যেকটা ঘটনার বিচার এ দেশের মাটিতে হতে হবে। গোপালগঞ্জের মাটি আমরা মনে করি ধানের শিষের ঘাটি। গোপালগঞ্জে যারা আ