• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণ মামলার পরে বাবা খুন”  ভুক্তভোগী পরিবারে কেন্দ্রিয় মহিলা বিএনপি’র সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মার্চ ১৮, ২০২৫, ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ধর্ষণ মামলার পরে বাবা খুন”  ভুক্তভোগী পরিবারে কেন্দ্রিয় মহিলা বিএনপি’র সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস

বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ
বরগুনায় মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়েরের পরে খুন হওয়া পিতা মন্টু চন্দ্র দাসের বাড়িতে সরাসরি উপস্থিত হয়ে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস। তিনি বলেন, অসহায় ভুক্তভোগী এ পরিবারের পক্ষে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে তাঁর দল সর্বাত্মক আইনি সহযোগিতা করবে। এ সময় শোকাহত অসহায় পরিবারের জন্য ঈদ সামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা দেন আফরোজা আব্বাস।

মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) সকাল ১০টায় পৌরসহরের কালীবাড়ি এলাকায় নিহত মন্টু চন্দ্র দাসের বাড়িতে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, যেখানেই নারী নির্যাতন, নারীর প্রতি সহিংসতা সেখানেই জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কঠোর অবস্থান।

আফরোজা আব্বাস আরো বলেন, বিএনপি বিলিয়ে খাবার দল, ছিনিয়ে খাবার দল নয়। সকলে মিলে দুঃখ ভাগাভাগির দল বিএনপি। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান লন্ডনে থেকেও সারাদেশের সকল বিষয়ে খোঁজ রাখেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সেসব সংকট মোকাবেলায় সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেন।

আফরোজা আব্বাসের সাথে মন্টু চন্দ্র দাসের বাড়িতে কেন্দ্রিয় বিএনপি নেতা ফিরোজ উজ্ জামান মামুন, আসমা আজীজ, বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা, জেলা বিএনপি নেতা ফজলুল হক মাষ্টার, এ জেডএম সালেহ ফারুক, হুমায়ুন হাসান শাহিন, অ্যাড. রেজবুল কবীর, অ্যাড. রনজু  আরা শিপু (পিপি) এবং তালিমুল ইসলাম পলাশ, আবুল কালাম আজাদ এবং ছাত্রদল কেন্দ্রিয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমানসহ বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত গত ১১ মার্চ দিবাগত রাতে বরগুনা পৌর শহরের কালিবাড়ি এলাকার নিজ বাড়ির পেছন থেকে মন্টু চন্দ্র দাসের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে গত ৫ মার্চ তার স্কুল পড়ুুয়া মেয়েকে অপহরণের পর ধর্ষনের অভিযোগে প্রতিবেশী শ্রিরাম রায়ের একমাত্র ছেলে শ্রিজিত চন্দ্র রায়কে আসামী করে মামলা দায়ের করেন মন্টু চন্দ্র দাস। ওই দিনই শ্রিজিত চন্দ্র রায়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের ৬ দিন আগেই কারাগারে যান ধর্ষণ মামলার আসামী শ্রীজিত চন্দ্র রায়।

এদিকে মন্টু চন্দ্র দাসের প্রথম কন্যা সপ্তম শ্রেণিতে, দ্বিতীয় কন্যা চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং সর্বকনিষ্ঠ কন্যার বয়স মাত্র ১ মাস। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে তিন কন্যা নিয়ে দিশেহারা এখন মন্টু দাসের স্ত্রী শিখা রাণী দাস। ঘটনার পর মন্টু চন্দ্র দাসের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম, এবং পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহীম খলিল। এছাড়া জেলা বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ মন্টু চন্দ্র দাসের বাড়িতে যান এবং ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।