• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ববিতে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ২০টি অভিযোগ, ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চের সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ২৪, ২০২৫, ১৮:২৮ অপরাহ্ণ
ববিতে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ২০টি অভিযোগ, ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চের সংবাদ সম্মেলন

ওয়াহিদ-উন-নবী, ববি প্রতিনিধি:
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনসহ ২০টি গুরুতর অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ’। এ সময় তারা উপাচার্যের প্রকাশ্য ক্ষমা ও পূর্বঘোষিত চার দফা দাবি মেনে নিতে দুই দিনের আল্টিমেটাম প্রদান করে।

বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।

ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চের চার দফা দাবিগুলো হলো—
১. ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহসিন উদ্দিনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহার এবং তাকে সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলে পুনর্বহাল করা।
২. আওয়ামী লীগের পদধারী রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলামকে অপসারণ।
৩. ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের সমর্থক শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপসারণ।
৪. ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের দায় নিয়ে উপাচার্যের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চের মুখপাত্র, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিন খান বলেন, “জুলাই বিপ্লবের পর আমরা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্বতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের আশা করেছিলাম। চেয়েছিলাম এমন একটি বিদ্যাপীঠ, যেখানে থাকবে না কোনো স্বৈরাচার, থাকবে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে একের পর এক হঠকারী সিদ্ধান্ত ও স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ।”

তিনি আরও বলেন, “বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বিপ্লবীদের বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে বিপ্লববিরোধী কোনো কার্যক্রমের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। আগামী দুই দিনের মধ্যে আমাদের যৌক্তিক চার দফা দাবি মেনে না নিলে ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ এমন কর্মসূচি ঘোষণা করবে, যা এই স্বৈরাচারী প্রশাসনকে কাঁপিয়ে দেবে।”

এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে “উপাচার্যের ব্যর্থতার উপাখ্যান ও শিক্ষার্থীদের হাহাকার” শীর্ষক একটি লিখিত অভিযোগপত্র উপস্থাপন করা হয়। এতে শিক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রমে ব্যর্থতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও অনিয়ম, শিক্ষার্থী হয়রানি ও অধিকার লঙ্ঘন এবং আর্থিক ও অবকাঠামোগত অদক্ষতা সংক্রান্ত মোট ২০টি অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।