• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী পালন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ৩০, ২০২৫, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী পালন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : খাতার পেজ ছিড়ে ফেলা, মার্ক টেম্পারিংসহ বিভিন্ন অভিযোগ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী পালন করেছে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

আজ বুধবার (৩০ এপ্রিল) অ্যানিম্যাল সাইন্স এন্ড ভেটেনারি মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যানের হুর-ই-জান্নাত জ্যোতির পদত্যাগ ও বিচারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ওই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। অপরদিকে, মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) রাতে এনিম্যাল সায়েন্স এ্যান্ড ভ্যাটেরিনারি মেডিসিন বিভাগের সভাপতি ড. মোছা হুর-ই-জান্নাতকে হেনস্তা কারার প্রতিবাদে ও প্রক্টর ড. আরিফুজ্জামান রাজীবকে তদন্ত কমিটি থেকে বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, বুধবার বেলা ১টার দিকে এনিম্যাল সায়েন্স এ্যান্ড ভ্যাটেরিনারি মেডিসিন বিভাগের সভাপতি ড. মোছা হুর-ই-জান্নাতের বিরুদ্ধে খাতার পেজ ছিড়ে ফেলা, মার্ক টেম্পারিংসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে প্রশাসন ভবনের সমানে অবস্থান কর্মসূচী শুরু করে ওই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। এসময় ড. মোছা হুর-ই-জান্নাতের পদত্যাগ ও বিচারের দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে প্লাকার্ড প্রদর্শন করেন তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা “আমার খাতার পেজ গেল কই?” “মার্ক টেম্পারিং এর বিচার চাই”, “প্রশ্ন ফাঁসের বিচার চাই, প্রশাসন জবাব চাই” লেখা সংবলিত প্লাকার্ড প্রদর্শন করে শ্লোগান দেয়। ওই বিভাগের ১৭ জন শিক্ষার্থী অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। ১৭ জনের মধ্যে ৯ জন ছাত্র ও ৮ জন ছাত্রী রয়েছে। এদের সবাই চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারে শিক্ষার্থী।

পরে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের প্রফেসর হোসেন উদ্দিন শেখর ন্যায় বিচারের আশ্বাসে দিলে তারা অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ায়।

এরআগে, মঙ্গলবার রাতে অ্যনিম্যাল সায়েন্স এ্যান্ড ভ্যাটেরিনারি মেডিসিন বিভাগের সভাপতি ড. মোছা হুর-ই-জান্নাতকে হেনস্তা কারার প্রতিবাদে ও প্রক্টর ড. আরিফুজ্জামান রাজীবকে তদন্ত কমিটি থেকে বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা। এসময় প্রক্টর ড. আরিফুজ্জামান রাজীকে তদন্ত কমিটি থেকে বহিষ্কারের দাবিতে বিভিন্ন ধরনের শ্লোগান দেন তারা। পরে খবর পেয়ে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে এসে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শেষ করে।

এদিকে, গত মাসের ২১ তারিখে ওই বিভাগের ১৫ জন শিক্ষার্থী উপাচার্য বরাবর ওই বিভাগের সভাপতি ড. মোছা হুর-ই-জান্নাতের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণ ও মানসিক হেনস্ত্র ও কাছের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র দেওয়ার প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ করে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন আনিসুর রহমানকে সভাপতি ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম গোলাম হায়দারকে সদস্য সচিব করে প্রশাসন ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, কৃষি অনুসদের ডিম জুলহাস আহমেদ জুয়েল, প্রক্টর আরিফুজ্জামান রাজিব, ছাত্র উপদেষ্টা মো. বদরুল ইসলাম, আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মানসুরা খানম, কৃষি বিজ্ঞান বিভাগের সরকারি অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম। এই কমিটি পাঁচটি বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। ২৮ মে অনুষ্ঠিত হয় সর্বশেষ বৈঠক।

গত সোমবার তদন্ত কমিটির মিটিং এ এনিম্যাল সায়েন্স এ্যান্ড ভ্যাটেরিনারি মেডিসিন বিভাগের সভাপতি ড. মোছা হুর-ই-জান্নাতকে হেনস্তা করে তদন্ত কমিটির সদস্য ও প্রক্টর ড. আরিফুজ্জামান রাজীর। এঘটনায় ভিসি বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন এনিম্যাল সায়েন্স এ্যান্ড ভ্যাটেরিনারি মেডিসিন বিভাগের সভাপতি ড. মোছা হুর-ই-জান্নাত।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অ্যানিম্যাল সাইন্স এন্ড ভেটেনারি মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান হুর-ই-জান্নাত জ্যোতি শিক্ষার্থীদের সাথে অশোভন আচরণ, পরীক্ষার উত্তরপত্রের ভেতর থেকে চার থেকে পাঁচটি পৃষ্ঠা ছিঁড়ে সাদা কাগজ ঢুকিয়ে দেওয়া, অন্য কোর্সের শিক্ষকদের থেকে মার্ক না নিয়ে নিজের ইচ্ছা মত ফলাফল প্রকাশ, পরীক্ষার আগে পছন্দের শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছেন এ ধরনের প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানাযায়, অ্যানিমেল সাইন্স এন্ড ভেটেনারি মেডিসিন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মার্জিয়া আফরোজকে প্রোটোজ্যুলজি (Protozoology) ও টক্সিকোলজি (Toxicology) দুইটি কোর্সের পরীক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি ওই কোর্স দুইটির কয়েকটি উত্তরপত্রের মধ্যে পেজ ছেড়া পায়। দ্বিতীয় পরীক্ষা হিসেবে ওই শিক্ষক লার্জ অনিমেল মেডিসিন ও ডেইরি কেমিস্ট্রিয়ান মাইক্রোবায়োলজি কোর্সের কয়েকটি উত্তরপত্র মধ্যে চারটি করে পেজ ছেড়া দেখতে পায়। এ বিষয়ে আরজে আফরোজ উপাচার্য বরাবর লিখিতভাবে জানায়।

অবস্থানরত চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মহিন হোসেন বলেন, পরীক্ষার আগে হুর-ই-জান্নাতি ম্যাম বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে প্রশ্ন দেন। ওই শিক্ষার্থী একই বিভাগের তার এক বন্ধুকে মেসেঞ্জারে পাঠায়। পরবর্তীতে তার বন্ধুর সাথে মনমালিন্য হলে সে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের কাছে সেটা প্রকাশ করে। যে প্রশ্নপত্র তাদের দিয়েছে পরীক্ষার পরে দেখা গেল পরীক্ষার যে প্রশ্নপত্র তার সঙ্গে হুবহু মিল। এছাড়া ম্যাম তার কাছের কয়েকজন শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য সকলের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে। এ বিষয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে আমাদের ডেকে নিয়ে ম্যাম বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়। বিভাগের অভিযোগের মাধ্যমেজানতে পারলাম আমাদের কয়েকজনের উত্তরপত্রের চারটি পেজ ছেড়া। এমনকি আমাদের এক শিক্ষার্থীর মেয়ে শূণ্য পেয়েও ফাইনাল পরীক্ষায় সে এ প্লাস পেয়েছে এটা কি করে সম্ভব? আমরা চেয়ারম্যান ম্যামের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি এবং আমাদের বিরুদ্ধে যে অন্যায় করা হয়েছে তার উপযুক্ত বিচার চাই।

অবস্থান কর্মসূচি পালনকারী শিক্ষার্থী সাগর রায় বলেন, আমাদের এক শিক্ষক আমাদের ইনকোর্স, মিডটার্মসহ সকল পরীক্ষা নিয়েছে। ওই শিক্ষকের কোন