• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরগুনায় ছেলে বন্ধু কে বিয়ে করতে না পারায় আত্মহত্যা করলেন আরেক ছেলে বন্ধু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মে ৬, ২০২৫, ১৪:৩৯ অপরাহ্ণ

বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ
বরগুনার বামনা উপজেলায় বিয়ের দাবীতে ছেলে বন্ধুর বাড়িতে অনশণ  প্রত্যাখ্যান করায় বিষপানে আত্মহত্যা করেছে বরগুনার এক কিশোর। সোমবার (৫ মে) দিবাগত রাত বারোটার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ওই কিশোর। অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় শিশু সুরক্ষা আইন অনুযায়ী এই সংবাদে ওই কিশোরের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিষপানকারী কিশোর এবং অপর কিশোর উভয়েই বরগুনার একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিচয়ের সূত্রে দুইজনের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়। তবে বন্ধুত্বের  সম্পর্কের একপর্যায়ে বামনার কিশোর প্রেমের প্রস্তাব ও বিয়ের দাবি জানালে, মঠবাড়িয়ার কিশোর তা প্রত্যাখ্যান করে এবং ফেসবুক  থেকে তাকে ব্লক করে দেয়। তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে রবিবার (৪ মে) দুপুরে কুমিরমারা এলাকায় তার বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে উঠে বামনার কিশোর এবং সেখানে সে ওই কিশোরের পা ধরে বিয়ের অনুরোধ করে ও বিষপানের হুমকি দেয়। পরে সেখানে মঠবাড়িয়ার কিশোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে বাড়ি ফিরে  রাতেই বিষপান করে বামনার কিশোর। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই কিশোরকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে মঠবাড়িয়ার কিশোর তার বাড়িতে ভয়ভিতি দেখানোর বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়।

এ ঘটনায় মঠবাড়িয়ার ছেলেটি বলেন, “সহপাঠী আমাকে বারবার প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আমাকে মানসিকভাবে হয়রানি করে আসছে। গত রবিবার সে আমাদের বাড়িতে এসে আমার পা জড়িয়ে ধরে বিয়ে করার অনুরোধ জানায় এবং বিষের বোতল নিয়ে বিষপানের হুমকি দেয়। এ বিষয়ে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি বিষয়টি এলাকার অনেকেই জানে।

এ বিষয়ে মারা যাওয়া কিশোরের মা বলেন, “গতকাল রাত বারোটার দিকে আমার ছেলে মারা যায়। পরে সকালে আমরা ওর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাই। এরপর পুলিশ এসে ময়নাতদন্তের জন্য ওর লাশ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নিয়ে গেছে। আমরা পোস্টমর্টেম করতে চাইনি। তারপরও পুলিশ লাশ নিয়ে গেছে।”

এ বিষয়ে বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হারুন অর রশীদ হাওলাদার বলেন, “নিহত কিশোরের বাবা প্রবাসী। তার মা তাকে মানুষিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি করেছে। এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের পরে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ বরগুনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”