হিজলা প্রতিনিধি:
বরিশালের হিজলা উপজেলার সবচেয়ে আলোচিত ও সমালোচিত বালু মহল – সাওরা-সৈয়দখালী বালু মহল বন্ধের দাবিতে এবার সরব হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ৫২এর ভাষা সৈনিক ও নদী-ভূমি রক্ষা আন্দোলন হিজলার আহবায়ক নায়েব আঃ কুদ্দুস।
আগামীকাল (শুক্রবার) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে উপজেলার খুন্না বন্দর এলাকায় এক মানববন্ধনের আয়োজন করেছেন তিনি ও তাঁর সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এটি আন্দোলনের প্রথম ধাপ হিসেবে ঘোষণা করেছেন কুদ্দুস সাহেব। এ কর্মসূচিতে সর্বস্তরের জনগণকে উপস্থিত থেকে সমর্থন জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের জবাবে নায়েব আঃ কুদ্দুস বলেন বালু মহলের নামে যে প্রক্রিয়ায় নদী খনন বা বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, তা একেবারেই জনবিরোধী। সাওরা-সৈয়দখালী এলাকার নদীখাত ও চরভূমিতে যেভাবে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু তুলছে, তাতে পুরো হিজলা উপজেলার মানচিত্রই বদলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা মানববন্ধনের পরে সরাসরি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাখাওয়াত হোসেন সাহেবের কাছে একটি লিখিত অভিযোগপত্র পেশ করব। আশা করি, তিনি নিজেই এলাকা পরিদর্শন করে প্রকৃত চিত্র বুঝে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও পরিবেশ সচেতন মহলের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে বালু মহল ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতির দিকে।
ড্রেজিংয়ের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে তীরবর্তী জমি ভাঙনের মুখে পড়ছে। কৃষিজমি ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে।
মাছের প্রজননস্থল ও নদীজীব বৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা স্থানীয় জেলেদের জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।পরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পরবর্তীতে নদী আরও বেশি ভাঙন প্রবণ হয়ে উঠবে।
বালু মহল প্রকল্পকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী মহল বালু ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করছে, অথচ জনগণের স্বার্থ অগ্রাহ্য হচ্ছে।বাল্কহেড ভরে বালু পরিবহনের ফলে দীর্ঘ ৫ কিলোমিটার এলাকায় জেলেরা মাছ শিকার করতে পারছে না।
নায়েব আঃ কুদ্দুসের দাবি, এই প্রকল্প “উন্নয়ন” নয় বরং “ধ্বংস” বয়ে আনবে হিজলার জন্য। তাই যতদিন না প্রকল্পটি বাতিল হচ্ছে, ততদিন আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন তিনি।