খালিদ হাসান, বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দিনমজুর, রিকশাচালক, শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের মানুষজন।
জেলা কৃষি অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মোতাহার হোসেন জানান, বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বাগেরহাট শহরের বাসিন্দা সোহেল রানা বলেন, “গতকাল রাত থেকেই হালকা বৃষ্টি শুরু হয়েছে। মাঝে মাঝে থামলেও আকাশ মেঘে ঢাকা। রাস্তাঘাট কাদায় একেবারে একাকার হয়ে গেছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় কাদাপানিতে চলাচলে ভোগান্তি দেখা দেয়। যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
শহরের এক রিকশাচালক বলেন, “ভোর থেকে রিকশা নিয়ে বের হয়েছি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে রাস্তায় যাত্রী কম। আয় প্রায় নেই বললেই চলে।”
একই কথা জানালেন কলেজ শিক্ষার্থী আনাস হুসাইন। তিনি বলেন, “সকালে ক্লাসে যেতে হয়। কিন্তু গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় বের হতে কষ্ট হয়েছে।”
হোটেল ব্যবসায়ী আবু বকর বলেন, “বৃষ্টির কারণে লোকজন কম বের হচ্ছে। দোকানে ভিড় নেই, বিক্রিও অনেক কম।”
ইজিবাইক চালক লাদেন শেখ বলেন, “সকাল থেকে বৃষ্টি থামছে না। যাত্রী পাচ্ছি না। রাস্তায় পানি জমে আছে, অনেকে বৃষ্টির ভয়েও বের হয় না।”
এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪০৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৩৯৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা থেকে ২৩০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।
নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ায় তা ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।
সাগর উত্তাল থাকায় জেলেদের গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।