• ২৩শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এবার পার্নো মিত্র’র আত্মহত্যার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুন ১৬, ২০২০, ১৪:৫৩ অপরাহ্ণ
এবার পার্নো মিত্র’র আত্মহত্যার চেষ্টা

রোববার আত্নহত্যা করেছেন বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপূত। এ বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এবার কলকাতার অভিনেত্রী পার্নো মিত্র জানালেন তিনিও আত্নহত্যা করতে চেয়েছিলেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার ও ফেসবুকে কয়েক পোষ্টের মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছেন তিনি। গত দেড় বছর ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছেন তিনি। কয়েকবারই মনে হয়েছে তিনি আত্নহত্যা করবেন। পার্নো মিত্র লিখেছেন, সুশান্ত অভিনেতা ছিলেন। দাঁতে দাঁত চেপে বেঁচে থাকার লড়াই চালাচ্ছিলেন সেই তরুণও।

আসলে কি জানেন, বেঁচে থাকার সব দরজা যখন বন্ধ হয়ে যায়, মুছে যায় শেষ আশাটুকুও, তখনই মানুষ চরম সিদ্ধান্ত নেয়। আমি নিজেও এই অবস্থার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। গত দেড় বছর ধরে টানা ওষুধ খাচ্ছি আমিও!
এই কথাগুলো লিখতে গিয়ে বার বার যন্ত্রণায় বুজে আসছে আমার গলা। সুশান্তের ব্যথা হয়তো আমি অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করতে পারছি। একটা সময় আমিও ওর মতোই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আত্মহত্যা করব। অনেক বার গুগল সার্চ করেছি, সুইসাইডের উপায় জানতে।
যেহেতু আমার দিকে পরিবারের অনেকগুলো মুখ তাকিয়ে তাই একটা সময় কাজের পরে কাজ করে যেতে হয়েছে, এখনও করছি। সমস্ত যন্ত্রণা দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করছি। এই যন্ত্রণা কিছু শব্দ বা বাক্য দিয়ে বোঝানোর নয়। এই ব্যথা উপলব্ধি করতে হয় মনের গভীর থেকে।
এই অবস্থা যখন চলতে থাকে সে সময় আমার কত নামডাক, আমি দেখতে কতটা সুন্দর, অর্থ, প্রতিপত্তি— কিচ্ছু মাথায় থাকে না। একটাই কথা মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে, জীবনের আর কোনও মানে নেই। আশা নেই। ক্লান্তিতে মন এতটাই ভরা থাকে যে মনে হয় সব ছেড়ে যাই এ বার! নতুন ছবি সাইনের কথাও তখন মাথায় থাকে না।

গত দেড় বছর ধরে আমি এই অবস্থার ভেতর দিয়ে গিয়েছি। এখনও পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারিনি। এখনও নিয়ম করে ওষুধ খেতে হয়। সেই সময় ভাগ্যিস পাশে পেয়েছিলাম বাড়ির লোকেদের। তারা আমায় ফিল করতে পেরেছিলেন। যদিও শুধু বাড়ির লোকের মাধ্যমে অবসাদ কাটানো যায় না।

অবসাদ একটি অসুখ। অবসাদ কাটাতে অবশ্যই ডাক্তার বা থেরাপিস্টের কাছেই যেতে হবে। বন্ধুদের সঙ্গে কফি খেতে গেলে বা হ্যাংআউটে গেলে অবসাদ কাটবে না। যারা অবসাদে ভুগছেন তারা কিন্তু তা লুকিয়ে রাখবেন না বা লজ্জা পাবেন না। এমনকি, সামান্য স্ট্রেসড হলেও থেরাপিস্টের কাছে যান। ওদের কারণেই কিন্তু আমি এখন অনেকটাই রিল্যাক্সড।