• ২২শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপ হাইতি, সুনামির সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত আগস্ট ১৫, ২০২১, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ণ
ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপ হাইতি, সুনামির সতর্কতা

ডেস্ক রিপোর্ট:
তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল হাইতি। শনিবার সকালে আচমকাই দেশের পশ্চিম অংশে ভয়াবহ কম্পন অনূভূত হয়। তাতে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় একাধিক এলাকা। কোথাও চোখের সামনে থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে রাস্তা। কোথাও আবার রাস্তার দু’পাশের অট্টালিকা সমান বাড়িগুলি মিশে গিয়েছে ধুলোয়। এখনো পর্যন্ত নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি যদিও, তবে ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা।

সে দেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, স্থানীয় সময় শনিবার সকালে আচমকাই তীব্র কম্পনে কেঁপে ওঠে দেশের পশ্চিমাংশ। তাতেই মুহূর্তের মধ্যে ধূলিসাৎ হয়ে যায় একাধিক এলাকা। আমেরিকার জিয়োলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, কম্পনের উৎসস্থল ছিল রাজধানী পোর্ত-অউ-প্রিন্স থেকে ১৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে, ভূগর্ভের ১০ কিলোমিটার গভীরে। দেশের অন্যত্রও কম্পন অনুভূত হয়। শুধু তাই নয়, পড়শি দেশগুলিতেও দীর্ঘ সময় ধরে আফটার শক অনুভূত হয়।

ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে হাইতি সরকার। তবে কত জনের প্রাণহানি ঘটেছে, রাত পর্যন্ত তার হিসেব মেলেনি। সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে দেশের নাগরিক নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান জেরি চ্যান্ডলার বলেন, ‘‘প্রাণহানি ঘটেছে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত। তবে এখনো পর্যন্ত সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছি আমরা।’’

২০১০ সালের ভূমিকম্পের ভয়াবহতা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি হাইতি। সে বার রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৭। কমপক্ষে ২.৫ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিলেন হাইতিতে। ধসে গিয়েছিল দেশের অর্থনীতি। সে বার ৫০ লাখ ডলার দিয়ে হাইতিকে সাহায্য় করেছিল ভারত। শনিবারের ভূমিকম্পে তাই আতঙ্কিত দেশের মানুষ। গুয়ান্তানামোর বাসিন্দা ড্যানিয়েল রস সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে বলেন, ‘‘সকলেই আতঙ্কে রয়েছেন। এমন ভয়াবহ ভূমিকম্প বহু দিন হয়নি।’’

উত্তর আটলান্টিকের গা ঘেঁষে অবস্থিত হাইতি ভূমিকম্প প্রবণ বলেই পরিচিত। এ ছাড়াও নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই থাকে সেখানে। ২০০২, ২০০৩, ২০০৬ এবং ২০০৭ সালে পর পর ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয় সেখানে, তাতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়। উত্তর গোলার্ধের অন্যতম দরিদ্র দেশ হাইতি। রাষ্ট্রপুঞ্জসহ বহু দেশ বিভিন্ন সময় বিপুল অনুদান দিলেও, সেখানকার পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি।

এর পর ২০১৬ সালে হাইতির দক্ষিণাঞ্চলে হারিকেন ম্যাথিউ আছড়ে পড়ে। সেই ধাক্কাও এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি হাইতি। ধ্বংসস্তূপ পর্যন্ত পুরোপুরি সাফ করে, হাজার হাজার মানুষকে পুনর্বাসন পর্যন্ত দিতে পারেনি সে দেশের সরকার