দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে এক অফিস থেকেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৫০ জন।
এটি একটি কল সেন্টার বলে আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যমগুলোতে জানানো হয়েছে।
দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, কল সেন্টারের আক্রান্তদের মধ্যে ৪৬ জনই কর্মী।
আর বাকি চারজন আক্রান্তদের পরিবারের সদস্য।
এর মাধ্যমে দেশটিতে একক কোনো ঘটনায় এত সংখ্যক মানুষ প্রাণঘাতী ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হল।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে সাউথ কোরিয়ান সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন দফতরের উপপরিচালক কোয়ান জুন-জেগে বলেন, ওই কল সেন্টারের ৪৬ জন কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারের চার সদস্যের শরীরে এ ভাইরাসের নমুনা পাওয়া গেছে।
কল সেন্টারটির কর্মীরা অফিসে মাস্ক ব্যবহার করতে না।
এদিকে এ খবরে স্থানীয়ভাবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ. কোরিয়ার স্বাস্থ্য দফতরের কর্মকর্তারা ওই অফিস ভবনের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ২০৭ কর্মীর সবাইকে পরীক্ষা করে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পুরো ভবনটিকে জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে।
ভবনের নিচ তলায় একটি পরিদর্শন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ভবনের কর্মীরা ও বাসিন্দারা পরীক্ষা করে ভাইরাস মুক্ত কিনা নিশ্চিত হবেন।
চীনের পর দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনা বিস্তার বেশি হয়েছে।
দেশটির সরকারি হিসাবে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত সাত হাজার ৫১৩ জন আক্রান্ত হয়েছে।
এদের মধ্যে অন্তত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের দেগুয়ে ও চোংডো নামের পাশাপাশি দুই শহরে এ ভাইরাস প্রথম ছড়ায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওই অঞ্চলের শিনচিওঞ্জি নামে ক্ষুদ্র একটি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান এক করোনা রোগী শনাক্ত হয়।
এরপর তা হু হু করে পুরো দেগুয়ে শহরে ছড়িয়ে পড়ে।