করোনাভাইরাস বায়ুবাহিত নিয়মিত মানব সংক্রমণকারী ভাইরাসগুলোর মধ্যকার একটি নতুন (নভেল) সদস্য ভাইরাস ছাড়া আর কিছুই নয়।
করোনাভাইরাস পৃথিবীতে সদ্যোজাত, আর তাই এটির প্রকোপ এবং এর পরবর্তী অবশ্যম্ভাবী ক্ষতির দিক থেকে একটু ব্যতিক্রমী হওয়াই স্বাভাবিক।
যেহেতু জীবাণুটি নবীন আর বিশ্ববাসীর কাছে নবাগত স্বভাবতই এর আক্রান্ত করার এবং আক্রান্ত হবার পর আক্রান্ত ব্যক্তির উপর ক্ষতি করার প্রকার উভয়ই মহামারীর কিছুকাল থাকবে অজানা, আর এটাই স্বাভাবিক।
এর দরুন যেহেতু মহামারী বা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার পূর্ববর্তীতে এটির প্রভাব কি হবে, এর প্রকোপে কী পরিমাণ মানুষ আক্রান্ত হবে আর কতজন মারা যাবে তা নির্ণয় করা দুরূহ হয়ে পড়ে।
যে কোনও সম্পূর্ণ নুতন অথবা বিলুপ্ত জীবাণুর নুতনভাবে আগমন আমাদের মানবকূলের চিন্তার ব্যাপার এই জন্য যে এর প্রকোপে মানব দেহে তৈরি হওয়া প্রতিরোধ বা ইমিউনিটি আনাক্রান্ত দেহে প্রাথমিকভাবে থাকে শূন্য অবস্থায়।
তার জন্যই বিনা বাধায় এটি আক্রান্তও করতে পারে অল্প সময়ে অনেক অনেক মানুষকে।
এর মধ্যে যাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত বা দূর্বল থাকে অথবা দেহে বিরাজমান থাকে অন্যান্য অসুখ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেই দেখা দেয় বিরূপ প্রভাব।
অবশ্য কিছু কিছু মহামারীতে শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে সম্পূর্ণ অকার্যকর সেটি ভিন্ন কথা।
তবে এটি চিরন্তন সত্য যে যে কোনও মহামারীতে বিশাল সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হবে, আবার সুস্থও হবে আর অপ্রতিরোধ্যভাবে কিছু সংখ্যক মানুষ মারাও যাবে।
যদিও একটা মৃত্যুও কারও কাম্য নয়।
ওহান ( Wuhan virus ) বা কোভিড-১৯(COVID-19) অথবা সার্স কোভি-২ (SARS-CoV-2) এর যে নামেই আপনি পরিচিত হন না কেন, প্রতিটি শতবর্ষ পরবর্তী মানুষের প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থ্যাতেই আসা যাওয়া করা আর মানুষেরই জয় করা গতানুগতিক মহামারী ছাড়া আর কিছুই নয়।
ভ্যাকসিন কবে আসবে?
প্রশ্ন আসতে পারে, এ মহামারী প্রতিরোধের ভ্যাকসিন কবে আসবে? উত্তরে বলা যায়, ভ্যাকসিন কবে আবিষ্কৃত হয়েছে, তার পূর্বে আগত মহামারী গুলো কিরূপে প্রতিরোধ হত তখন?
প্রকৃত অর্থে এটি মানুষের স্ব-প্রতিরোধী বায়ুবাহিত ভাইরাস যা তার প্রাকৃতিক নিয়মেই নিয়ন্ত্রিত হবে।
এটির জন্য ভ্যাকসিন যদি পাওয়াও যায় তা হবে অনাক্রান্ত দেশের জন্য আশীর্বাদ আর আক্রান্ত দেশের জন্য আগামী বছরের প্রতিরোধ।
রোগটি এমন এক উপায়ে অন্যকে আক্রান্ত করে যে এটিকে গতানুগতিকতা দিয়ে কোনও দেশ বা সংস্থা প্রতিরোধ করতে পারছে না।
যেসব সমীক্ষাসমূহ প্রদর্শিত হয় তা, প্রাকৃতিক নিয়মেই তার প্রকোপ শেষে অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ আর আমাদের কাছে আইওয়াশ ছাড়া আর কিছুই নয়।
এটি যেহেতু বায়ুবাহিত (বাতাসে ভাসে বেড়ানো নয়) ভাইরাস তাই অতি প্রাকৃত স্বভাবেই একটি দেশের জনগণের একটি অংশতে ছড়াবেই ছড়াবে তা সে ধীরেই হউক বা দ্রুততর উপায়ে।
স্বাভাবিক গতিরোধে প্রকৃত অর্থে কী লাভ?
কথা হচ্ছে যে, আমি কি এর গতিরোধ করব কি করব না বা এর স্বাভাবিক গতিরোধে প্রকৃত অর্থে কী লাভ?
এ ভাইরাস এর আগমন ইতিহাস যদি লক্ষ্য করি প্রথমে এটিকে হুনানের ওহানে একটি মাছ বাজার থেকে ছড়িয়েছে বলে ধারণা করলেও তা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করা যায়নি।
পুরো ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসব্যাপী তা উহানে ব্যাপক আকারে এক থেকে অন্যের শরীরে ছড়ায়।
১১ ফেব্রুয়ারি বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ঘোষণা মতে, চীনে ৪৩ হাজার নিশ্চিত রোগ আর এক হাজারের বেশি মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় যা অধিকাংশই ছিল ওহানে।
ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়ার আর এর বিস্তার প্রকৃতি (৪০-৫০ ভাগের লক্ষণই থাকে না) থেকে বলা যায়, সেখানের প্রায় সবাই আক্রান্ত হয়, যারা আগে থেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ বা তাঁদের যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম যেমন প্রবীণরা এতে বেশি মারা যায়।
ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রেসক্রিপশনে তারা লকডাউনে যায় যা ডেকে আনে মৃত্যু নামক ভয়াবহতা।
তারা এটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রথ্মে বুঝতে না পারার কারণে হয় ব্যর্থ পরবরতীতে লকডাউনে থেকে তা নিজেদের মধ্যেই শরীরে অন্যদের ছড়ায়।
ওদিকে সাংহাইতে আগেভাগেই ব্যবস্থা নেয়ায় বা আক্রান্ত হবার শুরুতেই লকডাউন আর ব্যাপক টেস্ট করে রোগী পৃথক করার এবং চিকিৎসা দেবার ব্যবস্থা নিশ্চিত করায় ওহানের অতি নিকটবর্তী বা একই দেশের বর্ডারে অবস্থানের পরও তাঁদের করোনা রোগী বা এতে মৃত্যু সংখ্যা ছিল নগন্য।
২৪টি দেশে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থ্যার তথ্য মতে, তাঁদের ৬টি অঞ্চলে আক্রান্ত সব দেশের মধ্যে ২৪টি দেশে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ঘটেছে, ৫০টি দেশে স্পোরাডিক সংক্রমণ ঘটেছে, ক্লাস্টার সংক্রমণ ঘটেছে ৭১টি দেশে। আর তথ্য পাওয়া যায়নি অবশিষ্ট দেশগুলো থেকে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ান অঞ্চলে এটি ৩টি দেশে স্পোরাডিক আর ক্লাস্টার সংক্রমণ ঘটেছে, ৭টি দেশে আর আমাদের বাংলাদেশে এটি এখনও ক্লাস্টার সংক্রমণের আওতায় রয়েছে বলে তারা নিয়মিত সার্ভিলেন্সের অংশ হিসেবে রিপোর্ট করেছে।
যদি তাও হয় অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের করোনা পরিস্থিতি বা চিত্র খতিয়ে দেখার ইঙ্গিত দেয়।
অন্যান্য অনেক দেশে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, যারা মহামারীকে দেশে প্রবেশের আগেভাগেই সফল লকডাউন করে আটকে দিয়েছে তারা বেশ সফল হয়েছে।
যারা আমাদের মতো অপারগতায় বা ধনী দেশের মতো তাচ্ছিল্য করেছে প্রথমভাগে তারাও ভুল পথেই হেঁটেছে, রোগ আমদানি করার পর বহাল তবিয়তে তা ছড়িয়ে দিয়েছে আমল না দিয়ে, যাদের লাইফস্টাইল ছিল নিরোগ পরিবেশে তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যাদের পপুলেশনে বয়স্ক বেশি তারা ভোগ করছে বেশি মৃত্যুহার।
চিকিৎসা পদ্ধতি যা তা হউক না যতটাই উন্নত এ রোগটি তো তার পথেই হাঁটবে।
আমেরিকার কথা যদি নজরে আনেন দেখবেন তারা আক্রান্ত হবার পর যে সময় পার করেছে আমরাও প্রায় তাই অতিবাহিত করছি।
তারা আগাম প্রস্তুতি নেয়নি বেখেয়ালিপনায়, আর যখন নজর দিল তত দিনে কমিউনিটি ট্রান্সমিশনে চলে গিয়েছে ।
আর এরপর সেই লকডাউন ফর্মূলায় গিয়ে বাসায় বাসায় বয়ে নিয়ে যাওয়ারা অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিলে তা ডেকে এনেছে মড়ক।
আরও একটি বিষয় খেয়াল করার মতো ওদের ওখানে এশিয়ান-আমেরিকানদের মধ্যে বাঙালিদের মৃত্যুহার বেশি; যার কারণ হচ্ছে অন্য দের তুলনায় বাঙালিরা নীচু কাজ বা রাস্তাঘাটের কাজ বা দিনমজুরি টাইপের কাজ করে বেশিআর তাই সংক্রমিতও হয়েছে বেশি, মারাও যাচ্ছে বেশি।
উহান থেকে ভাইরাস যেভাবে বাংলাদেশে এল
আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট চিন্তা করলে দেখা যাবে, আমাদের দেশে এটি ওহান থেকে প্রত্যাগত ছাত্র-ছাত্রীদের মাধ্যমে ফেব্রুয়ারিতেই প্রথমে এসেছে।
যেহেতু রোগটি অর্ধেকের কম কোনও প্রকার লক্ষণ ছাড়াই মানুষ বহন করে চলে এবং সব ছাত্র-ছাত্রী যেহেতু একই দিনে একই সময়ে আক্রান্ত হয়নি তাই তাদের মাঝে ছিল কিনা তা যেহেতু মিলিকিউলার টেস্টে প্রমাণিত নয় সেহেতু তাদের কোয়ারেন্টিনে রাখলেও তাদের থেকেই আগমন হয়েছিল বলা যায়।
এক্ষেত্রে ৮ মার্চ অবশ্যই ইনডেক্স কেইস নয় তা বলা যায়।
তার পর তখন আমাদের ব্যাপক টেস্ট করার সক্ষমতাও ছিল না তাই সে সময়ের আসল চিত্র বর্ণনা মতের মতো হবে কে গ্যারান্টি দেবে?
আমরা এরপর,একে একে সমগ্র মার্চ মাসব্যাপী চীনসহ সমস্ত আক্রান্ত দেশ থেকে আগতদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেইনি বরং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রেসক্রিপশনে অকার্যকর হোম বা সেলফ কোয়ারেন্টাইনে নিয়ে রোগটিকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিয়েছি।
তারও পরে আমরা অনাক্রান্তদের ছুটিতে পাঠিয়ে আক্রান্তদের সঙ্গে করে দিয়েছি মিশ্রিত যা লকডাউনের উদ্দ্যেশ্যকে ব্যাহত করেছে কেননা যার যার অবস্থানে তাকে স্থির রাখাই লকডাউনের প্রকৃত উদ্দেশ্য।
আবার বিভিন্ন সময়ে আক্রান্তরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে অনেকবার মিশেছে।
আর ছুটিতে থাকাকালে আমরা প্রত্যেকেই অকার্যকর ডাস্ট মাস্ক ব্যাবহার করে ঘুরে বেড়িয়েছি হাটে মাঠে ঘাটে।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখিনি বা থাকেনি মোটেও।
এটি এতে ধীরে ধীরে কমিউনিটি ট্রান্সমিশনে রূপান্তর হয়েছে।
সেই সঙ্গে স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ন্যাচারাল ইমিউনিটিও তৈরি হয়েছে বেশ।
আমাদের পপুলেশন পিরামিড লক্ষ্য করলে দেখা যায়, মধ্যম বয়সীদের আক্রান্তের হার বেশি।
তাছাড়া আমাদের দেশের মানুষদের অর্থনৈতিক বা পরিবেশগত কারণে এ জাতীয় বা বায়ুবাহিত রোগে প্রায়ই ভুগী, তাই প্রতিরোধ করার ক্ষমতা আমাদের স্বভাবতই বেশি।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার স্বার্থে ছুটিকালীন ঘরে থাকা কি নিশ্চিত হয়েছে? বাস্তবায়ন হয়েছে কতটুকু?
সামাজিক দূরত্ব কিভাবে রক্ষা করা হচ্ছে যেখানে আক্রান্ত অনাক্রান্ত একই মহল্লায়, একই বাসায় অবস্থান করছে।
আবার সবাই রাস্তায়, ঘরে বাইরে, হাট বাজারে নিত্য দিনের কাজকর্ম করে যাচ্ছে।
পক্ষান্তরে এখন রোগের প্রকোপ যদি বলা হয় বাড়ছে তাও হবে ভুল।
টেস্ট সংক্রান্ত যে ফলাফল প্রতিনিয়ত বলা হচ্ছে তাই এ প্রকার মহামারীতে ঘটে যাওয়া স্বাভাবিক চিত্র, কেননা আমাদের টেস্ট বা নির্ণয় সক্ষমতা বা ব্যাপ্তি যত বাড়ছে বাস্তবতার নিরীখে ঘটে যাওয়া আক্রান্ত রোগী ততই ধরা পড়ছে বেশি বেশি।
এ কোনও মিরাকল নয় আর এ প্রকার মৃত্যু সংখ্যা এটা এ রকম নভেল ভাইরাসে ঘটিত মহামারীতে ঠেকিয়ে রাখবে কার সাধ্য।
এখন আমাদের উচিৎ আমরা কি ইমিউন হয়েছি কিনা তা পরখ করে দেখা, দেহে রোগ প্রতিরোধ ওয়ালাদের সংখ্যা কত তা জানা এখন সময়ের দাবি।
আমরা করোনা (COVID-19) এর ক্ষেত্রে সম্প্রতি এক নির্ভরযোগ্য স্টাডি থেকে (Zhao J et al. Clin Infect Dis. 2020 March 28) সংক্রমিত হবার পর দেহে সৃষ্ট প্রতিরোধ তৈরি সংক্রান্ত যে তথ্য পেয়েছি তাহল এটিতে কেউ আক্রান্ত হবার পর ১ থেকে ৭দিনে শতকরা ৩৮ভাগ আর ১৫ থেকে ৩৯ দিনে শতকরা ১০০ভাগই মিউনিটিবা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে।
তাছাড়া যদি আমাদের দেশে প্রকাশিত ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত আক্রান্ত হবার তথ্যই খেয়াল করি, তবে বিগত ৮মার্চ থেকে আজ এ পর্যন্ত সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২৩১জন, কোয়ারেন্টাইন এগিয়েছেন ৯৩১৯৯ জন যার ৬৪৩১৫ জন কোয়ারেন্টাইন থেকে মুক্ত হয়েছেন আর আইসোলেশনে গিয়েছেন প্রায় ৫০০ জন, আইসোলেশন সম্পন্ন করেছেন ৪০০জন, সর্বমোট মৃত্যু ৫০জন।
এ চিত্রও গবেষণার দাবি রাখে যে, আমাদের এখানে কি ঘটে চলেছে, আমরা কি হার্ড ইমিউনিটির দিকে এগিয়ে গেছি কিনা?
অন্যদের দেখানো পথে নয়, হার্ড ইমিউনিটি গড়ে উঠলে আমাদের চিন্তা করতে হবে আমাদের মত করে।
ভারত ও এ পথেই এগুচ্ছে, অনিশ্চয়তা কাটিয়ে লকডাউন এ চলছে শিথিল করার পরিকল্পনা, ঘোষণাও এসেছে কিছু কিছু।
অর্থনৈতিক মন্দায় কে কাকে সাহায্য করবে?
আমাদের যত দিন যাচ্ছে আমরা ততই অর্থনৈতিক দৈন্যতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি ক্রমশ।
যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া হবে বেশ মুশকিল।
এখন থেকেই অনেক প্রাইভেট কোম্পানিগুলো তাদের কর্মচারীদের বেতনবিহীন ভবিষ্যতের আগাম বার্তা দিচ্ছে।
সাহায্য সহযোগিতা কতদিন বহাল থাকবে এ প্রকার উন্নয়নশীল দেশে?
আমাদের কিছুদিন পূর্বের রোহিঙ্গা সমস্যার কথাই যদি ভাবেন, কিছুদিন না যেতেই সবাই অধৈর্য হয়ে পড়েছিল, বৈদেশিক সাহায্যও এক সময় হয়ে আসে ক্ষীণ।
আর এখন তো কেউ তাঁদের খোঁজটুকুও নেয় না।
আর এ প্রকার বৈশ্বিক মহামারীতে আর অর্থনৈতিক মন্দায় কে কাকে সাহায্য করবে?
আমরা যদি বাস্তব অবস্থার নিরিখে এখনই ভেবে না চলি, চিন্তাভাবনা না করে ধনী দেশগুলোর মতো চিন্তা চেতনায় রাজকীয় হয়ে পড়ি, আমাদের জন্য বিশ্ব মন্দায় কে হাত বাড়াবে? না খেয়ে মারা যাবে এখন কার চেয়েও বহুগুণ ।
লেখক: ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন
ভাইরাসবিদ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ,নিপসম, মহাখালী, ঢাকা।